কেন এই জামি’আ?

মানব জীবনকে যদি একটি চলতি যান ধরা হয় তাহলে তার দুটি চাকার একটি পুরুষ অপরটি নারী, তাছাড়া মানব জাতির অস্তিত্ব বিকাশ ও বিস্তার কে আল্লাহ তায়ালা বেঁধে দিয়েছেন নারী পুরুষের যুগল বাঁধনে। তাই নারীকে বাদ দিয়ে মানব জীবন কল্পনা করা যায় না। ইসলাম আমাদের স্বভাবজাত ধর্ম। ইসলামী শিক্ষা, আমল-আখলাক, তাকওয়া, পরহেজগারীতা ও সভ্যতার দীক্ষা গ্রহণ এবং আমলে বাস্তবায়ন ও তার প্রচার প্রসার ইসলামের আসল উদ্দেশ্য। তাই পুরুষের যেমন ভূমিকা প্রয়োজন এক্ষেত্রে তেমনি ভূমিকা রাখতে হবে নারীকেও। ফলে ইসলামের প্রভাত কাল থেকেই এখানে পুরুষ যেমন ভূমিকা রেখেছে তেমনি রেখেছে নারী জাতি। ইসলামের সোনালী ইতিহাসে হযরত আবু বকর , ওমর, উসমান, আলী, সালমান ফারসী, ইবনে আব্বাস, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবু হুরায়রা, খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযিয়াল্লাহু আনহুম সহ সকল সাহাবায়ে কেরামের ঘরের বাইরে মাঠে-ময়দানে দাওয়াতী কাজ ও শত্রুর মোকাবেলায় তাদের যে পরিমাণ ত্যাগ-তিতিক্ষা ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা উঠে এসেছে তেমনি পর্দার অন্তরালে থেকে ও হযরত খাদীজাতুল কুরবা, আম্মাজান আয়েশা সিদ্দিকা, ফাতেমাতুয যাহরা, সাফিয়্যা সুমাইয়া, খানসা, আসমা বিনতে আবুবকর রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না সহ সকল মহিলা সাহাবীগণ নিজের স্বামীকে ভালবাসা দিয়ে, সন্তানকে মমতা দিয়ে, ভাইকে মহব্বত দিয়ে এবং বাবাকে শ্রদ্ধা ও সম্মান দিয়ে ইসলামের জন্য তৈরি করে মাঠে ময়দানে পাঠিয়ে তারাও রেখেছেন অনস্বীকার্য অবদান। ইসলামের এই ক্রান্তিলগ্নে ইসলামের প্রচার ও প্রসার এবং পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ইসলামকে মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আজও সাহাবায়ে কেরামের আদর্শে আদর্শবান নিবেদিতপ্রাণ নিরলস একদল দ্বীনের খাদেম খুবই প্রয়োজন। যাদের কে গড়ে তুলবে ইসলামী আদর্শে আদর্শবান মাতৃজাতি। কাঙ্ক্ষিত সেই মাতৃজাতি তৈরীর লক্ষ্য নিয়েই বরিশাল জেলার অন্তর্গত, উজিরপুর থানাধীন, শিকারপুর ইউনিয়নের পূর্ব মুন্ডপাশা গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক, শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মীর সোহরাব হোসেন দেশবরেণ্য হক্কানি উলামায়ে কেরামের পরামর্শে মারকাযুল কারীম সামেলা মাজেদ কওমি মাদরাসা পুরুষ শাখার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করেছেন জামি’আ ইসলামিয়া সামেলা খাতুন মহিলা মাদরাসা।